ভোরে উঠতে না পারলে ঘরের কোন জিনিস আগে পরিবর্তন করতে হয় বিস্তারিত জেনে নিন

ভোরে উঠতে না পারলে ঘরের কোন জিনিস আগে পরিবর্তন করবো এই প্রশ্নটি আজকের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নিত্য সঙ্গী। আমরা সবাই জানি ভোর সকালে ওঠার গুরুত্ব। কিন্তু যখনই এলারম বাজে মনে হয় বিছানা আমাদের আবদ্ধ করে রেখেছে।

ভোরে-উঠতে-না-পারলে-ঘরের-কোন-জিনিস-আগে-পরিবর্তন-করবো

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা শুধুমাত্র ভোরে উঠতে না পারার জন্য ঘরে কোন জিনিস পরিবর্তন করতে হবে এই প্রশ্নেরই শুধু উত্তর দিব না।বরং প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনের বিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানও ব্যাখ্যা করব। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

পেজ সূচিপত্রঃ ভোরে উঠতে না পারলে ঘরের কোন জিনিস আগে পরিবর্তন করবো

ভোরে উঠতে না পারলে ঘরের কোন জিনিস আগে পরিবর্তন করবো

ভোরে উঠতে না পারলে ঘরের কোন জিনিস আগে পরিবর্তন করবো এই বিষয়টি নিয়ে প্রায় এখন অনেকেই চিন্তিত। ভোরবেলা বিছানা ছাড়তে সমস্যা হলে অনেকেই নিজের অলসতা বা দুর্বল ইচ্ছা শক্তিকে দায়ী করেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো আপনার সবার ঘরের নকশা এবং পরিবেশ ও এতে সমান ভূমিকা রাখে। আপনি যদি নিয়মিত ভরে উঠতে না পারেন তাহলে প্রথমে পরিবর্তন করুন আপনার ঘরের পর্দা বা কারেন্ট। ঘন কালো ব্ল্যাকআউট পর্দা পুরোপুরি অন্ধকার তৈরি করে। আপনার শরীরে সকালে দিয়ে আন রিদম কে বিভ্রান্ত করে। 

এর বদলে হালকা রঙের পাতলা সুতি বার্লিনের পর্দা ব্যবহার করুন। যা ভোরের প্রাকৃতিক আলো ভেতরে প্রবেশ করতে দেবে। সকালের এই আলোয় আপনার মস্তিষ্ককে জেগে ওঠার সবচেয়ে কার্যকর সংকেত দেবে। আপনার বিছানার পাশের টেবিল ল্যাম্প বা রুম লাইট পরিবর্তন করাও জরুরী। সাদা ঠাণ্ডা আলোর বদলে উষ্ণ হলুদ আলোর বাল্ব ব্যবহার করুন। রাতে এই আলো চোখের জন্য আরামদায়ক এবং মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে সহায়ক। 

আরো পড়ুনঃ পুকুরে মাছ না বড় হওয়ার কারণ

আরো ভালো হয় যদি একটি স্মার্ট বাল্ব ব্যবহার করতে পারেন। যা সকালবেলা আপনার পুজোলে উঠতে পারে। তৃতীয়তো আপনার অ্যালার্ম ঘড়ি বদলে ফেলুন। ভয়াবহ শব্দের ডিজিটাল এলার্ম আপনাকে স্টেজ দিয়ে জাগায়। যা পুরো দিনের মেজাজ নষ্ট করতে পারে। এর বদলে সানরাইজ শিমুলেশন এলাম ক্লক ব্যবহার করুন। যা ভোরবেলা ধীরে ধীরে আলো ছড়িয়ে এবং পাখির ডাক বা মৃদু প্রাকৃতিক শব্দের সাথে আপনাকে জ্বালিয়ে তুলবে।

ঘরের ভিতরের আলোর ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন

আপনার বেডরুমের আলোর ব্যবস্থা পরিবর্তন করা সব থেকে বেশি জরুরী। আমাদের মস্তিষ্কের ফেনীআল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় মেলাটোনিন হরমোন। যা আমাদের ঘুমাতে সাহায্য করে। এই হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রিত হয় আলোর সংস্পর্শে এসে। আপনি যখন রাতে তীব্র বা নীল আলো এর সংস্পর্শে আসেন, তখন মেলাটোনিন উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং ঘুম আসতে দেরি হয়। আবার সকালে যখন প্রাকৃতিক সূর্যালোক আপনার চোখে পড়ে না জেগে ওঠার সংকেত পায় না। প্রথমেই পরিবর্তন করুন আপনার ঘরের পর্দা। 

ভারী অন্ধকার তৈরি কারি ব্ল্যাকআউট কার্টুন ছড়িয়ে ফেলুন। এর বদলে হালকা রঙের পাতলা সুতি বা লিলিয়ানের পর্দা লাগান। যা সকালের আলো সহজেই ভিতরে আসতে দেবে। আপনার বেড সাইড ল্যাম্প বা রুমের প্রধান লাইট পরিবর্তন করুন। রাতের জন্য একটি উষ্ণ সাদা বা আম্বার রঙের বাল্ব ব্যবহার করুন। যা নীল আলোর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। আরো ভালো হয় যদি আপনি একটি স্মার্ট বাল্ব কিনতে পারেন। 

যা সন্ধ্যায় উষ্ণ আলো এবং সকালে শীতল সাদা আলো দেয়। প্রাকৃতিক সূর্যালোকের অনুকরণ করে। তৃতীয়তঃ ইলেকট্রনিক ডিভাইসের আলোর সম্পূর্ণরূপে দূর করুন। টেলিভিশনের স্ট্যান্ড বাই লাইফ সার্জারি জোলা লাল সবুজ আলো বা ফ্যানের ডিসপ্লেকে কালো ইলেকট্রিক্যাল ঢেকে দিন। এই ক্ষুদ্র আলো গুলো আপনার ঘুমের মান বিঘ্নিত করে।

ঘরের ভিতরে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ 

ভোরে উঠতে না পারার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শব্দের পরিবেশ। হঠাৎ কোন তীক্ষ্ণ শব্দ আমাদের গভীর ঘুম থেকে তুলে দিতে পারে। কিন্তু তা আমাদের তরতাজা করে না। বরং ক্লান্ত ও বিরক্ত করে তোলে। আবার সম্পূর্ণ নিঃশব্দ পরিবেশ ও অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। প্রথমে আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে আপনার ঘুমের জন্য কোন ধরনের শব্দ উপকারী। যদি আপনি রাস্তার শব্দ বা প্রতিবেশীর আওয়াজের সমস্যায় ভোগেন। তাহলে ঘরের জানালা পরিবর্তন করার কথা ভাবতে পারেন। 

ডাবল গ্লাস জানালা অনেক ব্যয়বহুল হলেও আপনি ঘন কাপড়ের পর্দা শোষণকারী প্যানেল ব্যবহার করে কিছুটা সমাধান পেতে পারেন। আরেকটি পরিবর্তন হতে পারে একটি হোয়াইট নয়েজ মেশিন বা সাউন্ড স্লিপ ডিভাইস। এই যন্ত্রগুলি প্রকৃতির শব্দ অথবা একটি একনোমটন। আজ হোয়াইট নয়েস তৈরি করে। যা অনাকাঙ্ক্ষিত বাইরের শব্দ গুলোকে ঢেকে ফেলে। এটি আপনার মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং টানা ঘুমাতে সাহায্য করে।

তাপমাত্রা ও বায়ুর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ 

ভোরে উঠতে না পারার কারণ হিসেবে তাপমাত্রা ও বাতাসের গুণমান কে কখনোই অবহেলা করা যাবে না। গবেষণায় দেখা গেছে ঘুমানোর জন্য আদর্শ ঘরে তাপমাত্রা হলো ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অনেক বেশি গরম বা ঠান্ডা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় এবং সকালে ক্লান্তি নিয়ে জাগতে বাধ্য করে। প্রথমেই দেখা দরকার আপনার বেডরুমের থার্মোমিটার এবং ভেন্টিলেশন। যদি ঘর অতিরিক্ত গরম হয় তাহলে এসি বা ফ্যানের ব্যবহার পরীক্ষা করুন। একটি প্রোগ্রামে বল থার্মো ইস্টেট হলে ভালো হয়। যাতে আপনি রাতের বেলা তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখতে পারেন। 

ভোরে-উঠতে-না-পারলে-ঘরের-কোন-জিনিস-আগে-পরিবর্তন-করবো

ভোর হওয়ার আগে তা স্বাচ্ছন্দ্যময় মাত্রায় নিয়ে আসতে পারেন। আপনার বিছানা চাদর বালিশের কভার এবং কম্বল পরীক্ষা করুন। মোটা সিনথেটিক ফেব্রিক শরীরের তাপ আটকে রাখে এবং অস্বস্তি তৈরি করে। সেগুলো পরিবর্তন করে নিন। শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারে এমন প্রাকৃতিক ফাইবার। যেমন ছুটি কটন লিলিয়ান বা বাসের ফেব্রিক দিয়ে তৈরি লিনিয়ন দিয়ে পদার্থ গুলো শরীরের আর্দ্রতা শুষে নেয় এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। 

ঘরের বিছানা ও বালিশের পরিবর্তন 

ভোরে উঠতে না পারার কারণ হিসেবে সবচেয়ে সরাসরি ভাবে যুক্ত আছে আপনার বিছানা এবং বালিশে। আপনি দিনের তৃতীয়াংশ সময় কাটান। এই বিছানায় যদি এটি আরামদায়ক না হয়, তাহলে ভালো ঘুম এবং সকালে সতেজ ভাবে ওঠা দুটোই প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রথমে বিবেচনা করুন আপনার গদি বা ম্যাট্রিক্সটি কি খুব নরম। খুব শক্ত নাকি ডেবে গেছে। একটি আদর্শ গদি হওয়া উচিত মেরুদন্ডকে সোজা রেখে শরীরের সকল পেশীকে সাপোর্ট দেবে। এমন যদি আপনার গদির ৭ থেকে ৮ বছরের বেশি পুরনো হয়। 

তাহলে সেটি পরিবর্তনের সময় এসেছে মেমরি ফোন লেটেক্স বা হাইব্রিড ম্যাট্রেস স্বাচ্ছন্দ দিতে পারে। আপনার বালিশ পরিবর্তন করুন। মানুষের উচ্চতা এবং নমনীয়তা আপনার ঘাড় ও মাথার অবস্থানের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। যারা পিঠে ওমান তাদের নরম ও কম উঁচু বালিশ প্রয়োজন। আর যারা পাশ ফিরে ঘুমান তাদের দৃঢ় ও বেশি উঁচু বালিশ দরকার। এগুলো পরিবর্তন করলে আপনার ঘুমের মান উন্নত হবে। 

ঘরের ভিতরের রং এর প্রভাব 

ভোরে উঠতে না পারার কারণ হিসেবে আমরা প্রায়ই ঘরের রংয়ের প্রভাবকে উপেক্ষা করি। রং শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না। এটি সরাসরি আমাদের মানসিক অবস্থা, আবেগ এবং এমনকি শারীরিক প্রতিক্রিয়া কেও প্রভাবিত করে। আপনার বেডরুমের দেয়াল যদি গাড়ো নেভি, লাল বা কালো রঙ্গের হয়। তাহলে তা মানসিকভাবে আপনাকে সংকুচিত ও ভারী একটা অনুভূতি দিতে পারে। যা ভোরের তরতাজা অনুভূতির বিরোধী। প্রথমে পরিবর্তন করুন আপনার বেডরুমের দেয়ালের রং। ভোরের সাথে মানানসই রং হলো যেমন হালকা আকাশ নীল, সফটমেন্ট গ্রিন, লাভেন্ডার বা খুব হালকা পিচ রং। 

এই রং গুলো চোখ ও মনের উপর শান্ত প্রভাব ফেলে এবং সকালের আলোতেও ঘরকে প্রাণবন্ত দেখায়। এরপর দেখুন আপনার ঘরের কার্পেট, পর্দা এবং বিছানার কভারের রং। এগুলো যদি অতিরিক্ত গাঢ় বা বই ফিড়েস্ত পূর্ণ রঙ্গের হয়। তাহলে তা ঘরে শান্ত পরিবেশ নষ্ট করে। একত্রিত রঙ্গের সাদার সাথে হালকা কোন রংয়ের সংমিশ্রণ বেডরুমের জন্য একটি আদর্শ রং। 

আরো পড়ুনঃ সবজি গাছে পোকা না থাকলেও নষ্ট 

শোবার ঘরে আয়নার অবস্থান ও সংখ্যা পুনঃ বিবেচনা করুন অনেকের মধ্যে। সবার ঘরে আয়না থাকবে তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং সকালে অতিরিক্ত আয়না আপনাকে নিজের প্রতিবিম্বের ব্যবহার করতে পারে। যা সময় নষ্ট করে। আয়না যদি সরাতে হয়। তাহলে তা বিছানা থেকে সরাসরি দৃষ্টি সীমার বাইরে রাখুন বা ঢেকে দিন। 

ইলেকট্রনিক ডিভাইসের জঞ্জাল পরিবর্তন 

ভোরে উঠতে না পারলে ঘরের কোন জিনিস আগে পরিবর্তন করবো এই যুগে এর সবচেয়ে জরুরি উত্তর গুলোর একটি হলো আপনার সবার ঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরানো। টেলিভিশন ল্যাপটপ গেমিং কনসোল এবং মাত্র আপনার স্মার্টফোন। এই ডিভাইস গুলো দুইভাবে আপনার ঘুম ও সকাল নষ্ট করছে। প্রথমত এদের স্ক্রিন থেকে নিঃসরিত ব্লু লাইট হরমোনের উৎপাদন ব্যাহত করে। দ্বিতীয়তঃ এরা আপনাকে মানসিকভাবে সজাগ রাখে। কাজের ইমেইল সোশ্যাল মিডিয়া নোটিফিকেশন বা মর্মান্তিক কোন নিউজ হেডলাইন আপনার মস্তিষ্ককে বিশ্রাম নিতে দেয় না।

ভোরে-উঠতে-না-পারলে-ঘরের-কোন-জিনিস-আগে-পরিবর্তন-করবো

প্রথমে একটি শোবার ঘরের জন্য চার্জিং স্টেশন তৈরি করুন। কিন্তু তা যেন আপনার বিছানা থেকে দূরে, এমনকি বেডরুমের বাইরে হয়। রাতে সবার আগে ফোন সেটিকে সেই স্টেশনে রেখে আসুন। আপনার বিছানার পাশের টেবিল থেকে সব ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সরিয়ে ফেলুন। তার বদলে রাখুন একটি ভালো বই, একটি নোটবুক, পেন বা একটি হালকা সুগন্ধীর ক্যান্ডেল। এই স্থানটিকে শান্তি ও বিশ্রামের জন হিসেবে পুনরায় ডিজাইন করুন। তাহলে আপনি ভোরে উঠতে না পারার সমস্যাটিকে দূর করতে পারবেন। 

ঘরের গন্ধ ও সুগন্ধি ঘ্রাণের মাধ্যমে জাগরণ 

ভোরে উঠতে না পারার এই সমস্যার আরেকটি মাত্রা হলো ঘরে বাতাসের গুণগত মান এবং সুঘ্রাণ। আমাদের ঘ্রাণ ইন্দ্রিয় সরাসরি মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমের সাথে যুক্তির কেন্দ্র। একটি মন মাতানোর সতেজ গন্ধ আপনাকে উৎফুল্ল করতে পারে। আবার একটি ভারী স্টিল গন্ধ আপনাকে অলস করে তুলতে পারে। প্রথমে নিশ্চিত হন আপনার বেডরুমের বাতাস যেন সতেজ থাকে। দিনে অন্তত একবার জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। 

যদি বাইরের সমস্যা হয়, তাহলে একটি এয়ার ব্যবহার করুন। পুরনো কার্পেট ধুলোবালি এবং স্যাঁতস্যাঁতে ঘ্রাণ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। একটি এসেন্সিয়াল অয়েল রিফিউচার কিনুন এবং এমন কিছু তেল ব্যবহার করুন। যা সকালে উঠতে সাহায্য করে। যেমন রোজমেরি পিপারমেন্ট সাইট্রাস বা ইউক্যালিপটাস এসেন্টিয়াল ওয়েল। এই গন্ধ গুলো উদ্দীপক এবং মনকে সতেজ করে। আপনি চাইলে ডিফিউচারটি একটি টাইমারে সেট করতে পারেন। 

যাতে তা আপনার অ্যালার্ম বাজার কিছুক্ষণ আগে থেকে কাজ করা শুরু করে। আপনার বিছানার চাদর এবং তাকানা গুলো নিয়মিত ধোয়ার ব্যবস্থা করুন। সপ্তাহে একবার চাদ,র বাড়ির সব কভার ধোয়া উচিত। ধোয়ার সময় ফেব্রিক সফট সোনার এবং এসেন্সিয়াল অয়েল যোগ করতে পারেন। যাতে বিছানায় একটি হালকা সতেজ গন্ধ থাকে। 

ঘুমপাড়া নিয়া পরিবেশ থেকে সকালের আহ্বান তৈরি করা 

ভোরে উঠতে না পারার এই সমস্যার সমাধানের প্রশ্নের উত্তরে আপনাকে বেডরুমটিকে শুধু ঘুমানোর স্থান না ভেবে ভোরের প্রস্তুতিরও একটি স্থানে পরিণত করতে হবে। এই মানুষের ট্রানজেকশন তৈরি করতে ঘরে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। প্রথমেই আপনার বেডরুমের একটি কোন কে মর্নিং কর্নার বা সকাল এর কোণে পরিণত করতে হবে। সেখানে একটি ছোট টেবিলে রাখুন সকালে রুটিনের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস। একটি পূর্ণ গ্লাস জলের বোতল। আপনার ভিটামিন হয়তো একটি অনুপ্রেরণা মূলক উক্তি। লেখা কার্ড বা যে বইটি আপনি সকালে পড়বেন। 

আরো পড়ুনঃ গ্রামে বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ বেশি আসা

এই কোনটি আপনাকে বিছানা থেকে উঠে একটা নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার মানসিক প্রেরণা দেবে। স্বাক্ষ পরিবর্তন করুন। যদি আপনি খুব অস্বস্তি কর বা গরম পোশাকে ঘুমান। তাহলে তা পরিবর্তন করে নিন। শ্বাস  নিতে পারে, এমন আরামদায়ক  সুতির পোশাক পড়ুন। বিছানাকে দিনের বেলা অ্যাড্রেস মুক্ত জন হিসেবে গড়ে তুলুন। বিছানায় শুয়ে ফোন ব্যবহার করা, কাজ করা বা খাওয়া বন্ধ করুন। বিছানাকে শুধুমাত্র ঘুম ও বিশ্রামের সাথে যুক্ত করুন। এতে করে আপনার মস্তিষ্ক বিছানাকে দেখলেই ঘুমের সংকেত পাবে এবং সকালে বিছানা ছাড়ার সময়ও বেশি দেরি করবে না।

শেষ কথাঃ ভোরে উঠতে না পারলে ঘরের কোন জিনিস আগে পরিবর্তন করবো

ভোরে উঠতে না পারলে ঘরের কোন জিনিস আগে পরিবর্তন করবো এই দীর্ঘ আলোচনার শেষ উপলব্ধি করতে হবে যে কোন একটি জিনিস পরিবর্তন করে। অলৌকিক পরিবর্তন আশা করা যাবে না। বরং বহু ছোট ছোট বিজ্ঞানসম্মত পরিবর্তনের সমষ্টি একটি বড় পার্থক্য তৈরি করবে। আপনার বেডরুমকে একটি স্লিপ সেক্রেডিয়াম ক্লিনিক হিসেবে ভাবুন। আলো, শব্দ, তাপমাত্রা, বায়ুর রং, গন্ধ আসবে বিন্যাস এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি সবকিছুর সমন্বিত উন্নয়নে আপনাকে গভীর ঘুম এবং স্বদেশ জাগরণ দিতে পারে। একদিনে সব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। 

প্রথমে ঘরের রং সাজসজ্জার দিকে নজর দিন। প্রতিটি পরিবর্তনের পর নিজের ঘুম ও জাগরণের অভিজ্ঞতা লিখে রাখুন। দেখবেন কেমন উন্নতি হচ্ছে। ভোরে উঠতে না পারার এই সমস্যার সমাধানের প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর হল আপনার ঘরের যে জিনিসটি আপনার ঘুম ও সকাল কে ব্যাহত করছে, সেটি প্রথম পরিবর্তন করবেন। কিন্তু মনে রাখবেন পরিবর্তনগুলো হতে হবে টেকসই এবং আপনার জীবনীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একটি আদর্শ বেডরুম হল এমন একটি আশ্রয়স্থল যা রাতে আপনাকে শান্তি দেয় এবং ভোরে আপনাকে সম্ভাবনার দিকে ধাক্কা দেয়। আপনার এই যাত্রা শুভ হোক।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url